‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নাকি ‘সবার আগে সাম্রাজ্যবাদ’?
‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নাকি ‘সবার আগে সাম্রাজ্যবাদ’?
আন্দোলন প্রতিবেদন
বৃহঃস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬ | অনলাইন সংস্করণ
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের মাত্র ৩ দিন আগে ইউনূস সরকার আমেরিকার সাথে দেশের স্বার্থবিরোধী একটি বাণিজ্য চুক্তি করে। এটি নামে বাণিজ্যচুক্তি হলেও এর ভিতর প্রতিরক্ষাচুক্তিও আছে। ইউনূস সরকারের সময়কালে চুক্তি হলেও এই চুক্তিতে বিএনপি-জামাতের সম্মতি ছিল তা বিএনপির বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান নিশ্চিত করেছেন। তাই এই চুক্তির জন্য দায়ী হলো এদেশের গণবিরোধী আমলা-মুৎসুদ্দি শাসকশ্রেণির প্রতিনিধি বিএনপি-জামাত-এনসিপিসহ বুর্জোয়া দলগুলো ও বিশেষত ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার।
কী আছে চুক্তিতে:
এই চুক্তির সব বিষয় বিস্তারিত এখানে লেখা সম্ভব নয়। সংক্ষেপে: চুক্তিতে আছে, আমেরিকার অনুমতি ছাড়া অন্য কোনো দেশ থেকে কিছু আমদানি করা যাবে না। এ জন্যই সম্প্রতি এত প্রচণ্ড জ্বালানি ঝুঁকির মধ্যেও রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য আমেরিকার অনুমতি চাইতে হয়েছে বিএনপিকে। কী নির্লজ্জ দাসত্ব! চুক্তিতে আছে, আমেরিকার পণ্যের উপর কোনো নজরদারি করা যাবে না। দেশে কোনো পরীক্ষা করা ছাড়াই জিএমও ফুড নামে ক্ষতিকর মার্কিন কৃষিপণ্য এদেশের বাজারে প্রবেশ করবে। কৃষিপণ্যের মধ্যে গম, সয়াবিন, সয়া থেকে তৈরি পণ্য এবং তুলা– ইত্যাদি যা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ও নির্দিষ্ট পরিমাণ ক্রয় করতে হবে। ওষুধ শিল্পের কাঁচামালের উপর শুল্ক দিতে হবে। আমেরিকার বোয়িং কোম্পানি হতে বিমান কিনতে হবে। ইতিমধ্যে ১৪টি বিমান ৪৫ হাজার কোটি টাকার বেশি দামে কেনার চুক্তি হয়েছে। আগামী ১৫ বছরে ১৫ বিলিয়ন ডলারের (প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা) এলএনজি আমদানি করতে হবে। অন্যদেশ থেকে সস্তায় তুলা, সামরিক-বেসামরিক সরঞ্জাম কেনা যাবে না। এছাড়া পোল্ট্রি, ডিম, মাংস– ইত্যাদি আমদানির বাধ্যবাধকতা রয়েছে এই চুক্তিতে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সুবিধায় অগ্রাধিকার দিতে হবে। শুল্ক কমানোর অজুহাতে দেশকে নব্য দাসত্বের শিকলে বাধার তোড়জোড় চলছে। সম্প্রতি বিএনপি সরকার নতুন করে ইইউ-এর সাথে রাজনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে। সাম্রাজ্যবাদী ইইউ দেশগুলো এখন রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করতে বৈধতা পাবে। এই চুক্তিতেও অন্তত ৩৫টি বিষয় রয়েছে। যা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি।
চুক্তির প্রভাব কী হতে পারে:
এই চুক্তি দেশকে আরো বেশি আমেরিকা-নির্ভর করে তুলবে। অর্থনীতি ও রাজনীতির ক্ষেত্রে আমেরিকা-নির্ভরতা বাড়বে। জাতীয় ও স্থানীয় শিল্প ধ্বংস হবে। পোল্ট্রি ও গার্মেন্ট শিল্প হুমকির মুখে পড়বে। লক্ষ লক্ষ শ্রমিক বেকার হবে। কৃষিতে জিএমও ফুড মাটির উর্বরা শক্তি হ্রাস করে কৃষিকে আরো ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে। ডায়াবেটিসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ওষুধের দাম বেড়ে যাবে। এই অর্থনৈতিক চাপ সামাল দিতে সরকার জনগণের উপর ট্যাক্স আরো বাড়াবে। এভাবে জনগণ নতুন এক বিপজ্জনক পরিস্থিতির সম্মুখীন হবে। পারমাণবিক বিদ্যুৎ সরঞ্জাম আমদানি করতেও আমেরিকার অনুমতি লাগবে। এমন কোনো চুক্তি অন্য দেশের সাথে করা যাবে না (সামরিক/বাণিজ্য) যাতে আমেরিকার স্বার্থ ক্ষুন্ন হয়। এ যেন নব্য রূপে জেঁকে বসা নব্য কোম্পানি শাসন।
সর্বোপরি, এ চুক্তি রাজনৈতিক ভাবে নব্য উপনিবেশবাদী ষড়যন্ত্র, যা দালাল ইউনূস সরকার করে গেছে। আর তাকে বিএনপি সরকারসহ সকল বুর্জোয়া পার্টিই কার্যত মেনে নিচ্ছে। কারণ, তাদের সকলের ক্ষমতায় থাকা ও যাওয়ার উৎস হলো সাম্রাজ্যবাদ, বিশেষত আমেরিকা। আমেরিকার এ অধীনতা না মানলে তেমন সরকারকে ফেলে দেবার হাজারটা উপায় সে অবলম্বন করতে সক্ষম। তথাকথিত গণ-আন্দোলন, সামরিক ক্যূ, হত্যা, নাশকতা, দেশের ভেতর থেকে সরকার প্রধানকে উঠিয়ে নিয়ে যাবার গুন্ডামি (ভেনিজুয়েলা), এমনকি সামরিক আক্রমণ (ইরান)– সবই সে করতে পারে। সাম্রাজ্যবাদ-নির্ভর রাজনীতি ও অর্থনীতির ধারক ও সেবক বুর্জোয়া পার্টিগুলো তাই এ ধরনের জাতিগত দাসত্বকে মেনে নিচ্ছে। বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরে স্লোগান তুলেছিল ‘সবার আগে বাংলাদেশ’! এখন বিএনপি সরকার বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করা যাবে না বলছে। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বলে এখন ‘সবার আগে আমেরিকা’ নীতিই বাস্তবায়ন করছে। অন্তর্বর্তী সরকারের বন্দর চুক্তিও তারা বাতিল করছে না।
সংসদে জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপি-জামাত-এনসিপি মুখে ফেনা তুলে ফেলছে কে কত বড় দেশপ্রেমিক তার প্রমাণে! অথচ দেশবিরোধী এই সব চুক্তি নিয়ে সংসদে কোনো উত্তাপ নেই! কারণ সরকারি ও বিরোধীদলের সম্মতিতেই এই সব দাসত্বমূলক, দেশবিরোধী চুক্তি হয়েছে, হচ্ছে, আরো হবে। দেশপ্রেমিকের বেশে এরা সকলেই মার্কিনসহ সকল সাম্রাজ্যবাদের দালাল।
তাই সকল দেশপ্রেমিক সচেতন নাগরিক এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে এই চুক্তির বিরোধিতায় ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামতে হবে। সরকারি ও বিরোধী দলের এই গণবিরোধী, দেশবিরোধী চুক্তিকে উন্মোচন করতে হবে এবং এই চুক্তি বাতিলে এদেরকে বাধ্য করতে হবে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নাকি ‘সবার আগে সাম্রাজ্যবাদ’?
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের মাত্র ৩ দিন আগে ইউনূস সরকার আমেরিকার সাথে দেশের স্বার্থবিরোধী একটি বাণিজ্য চুক্তি করে। এটি নামে বাণিজ্যচুক্তি হলেও এর ভিতর প্রতিরক্ষাচুক্তিও আছে। ইউনূস সরকারের সময়কালে চুক্তি হলেও এই চুক্তিতে বিএনপি-জামাতের সম্মতি ছিল তা বিএনপির বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান নিশ্চিত করেছেন। তাই এই চুক্তির জন্য দায়ী হলো এদেশের গণবিরোধী আমলা-মুৎসুদ্দি শাসকশ্রেণির প্রতিনিধি বিএনপি-জামাত-এনসিপিসহ বুর্জোয়া দলগুলো ও বিশেষত ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার।
কী আছে চুক্তিতে:
এই চুক্তির সব বিষয় বিস্তারিত এখানে লেখা সম্ভব নয়। সংক্ষেপে: চুক্তিতে আছে, আমেরিকার অনুমতি ছাড়া অন্য কোনো দেশ থেকে কিছু আমদানি করা যাবে না। এ জন্যই সম্প্রতি এত প্রচণ্ড জ্বালানি ঝুঁকির মধ্যেও রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য আমেরিকার অনুমতি চাইতে হয়েছে বিএনপিকে। কী নির্লজ্জ দাসত্ব! চুক্তিতে আছে, আমেরিকার পণ্যের উপর কোনো নজরদারি করা যাবে না। দেশে কোনো পরীক্ষা করা ছাড়াই জিএমও ফুড নামে ক্ষতিকর মার্কিন কৃষিপণ্য এদেশের বাজারে প্রবেশ করবে। কৃষিপণ্যের মধ্যে গম, সয়াবিন, সয়া থেকে তৈরি পণ্য এবং তুলা– ইত্যাদি যা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ও নির্দিষ্ট পরিমাণ ক্রয় করতে হবে। ওষুধ শিল্পের কাঁচামালের উপর শুল্ক দিতে হবে। আমেরিকার বোয়িং কোম্পানি হতে বিমান কিনতে হবে। ইতিমধ্যে ১৪টি বিমান ৪৫ হাজার কোটি টাকার বেশি দামে কেনার চুক্তি হয়েছে। আগামী ১৫ বছরে ১৫ বিলিয়ন ডলারের (প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা) এলএনজি আমদানি করতে হবে। অন্যদেশ থেকে সস্তায় তুলা, সামরিক-বেসামরিক সরঞ্জাম কেনা যাবে না। এছাড়া পোল্ট্রি, ডিম, মাংস– ইত্যাদি আমদানির বাধ্যবাধকতা রয়েছে এই চুক্তিতে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সুবিধায় অগ্রাধিকার দিতে হবে। শুল্ক কমানোর অজুহাতে দেশকে নব্য দাসত্বের শিকলে বাধার তোড়জোড় চলছে। সম্প্রতি বিএনপি সরকার নতুন করে ইইউ-এর সাথে রাজনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে। সাম্রাজ্যবাদী ইইউ দেশগুলো এখন রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করতে বৈধতা পাবে। এই চুক্তিতেও অন্তত ৩৫টি বিষয় রয়েছে। যা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি।
চুক্তির প্রভাব কী হতে পারে:
এই চুক্তি দেশকে আরো বেশি আমেরিকা-নির্ভর করে তুলবে। অর্থনীতি ও রাজনীতির ক্ষেত্রে আমেরিকা-নির্ভরতা বাড়বে। জাতীয় ও স্থানীয় শিল্প ধ্বংস হবে। পোল্ট্রি ও গার্মেন্ট শিল্প হুমকির মুখে পড়বে। লক্ষ লক্ষ শ্রমিক বেকার হবে। কৃষিতে জিএমও ফুড মাটির উর্বরা শক্তি হ্রাস করে কৃষিকে আরো ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে। ডায়াবেটিসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ওষুধের দাম বেড়ে যাবে। এই অর্থনৈতিক চাপ সামাল দিতে সরকার জনগণের উপর ট্যাক্স আরো বাড়াবে। এভাবে জনগণ নতুন এক বিপজ্জনক পরিস্থিতির সম্মুখীন হবে। পারমাণবিক বিদ্যুৎ সরঞ্জাম আমদানি করতেও আমেরিকার অনুমতি লাগবে। এমন কোনো চুক্তি অন্য দেশের সাথে করা যাবে না (সামরিক/বাণিজ্য) যাতে আমেরিকার স্বার্থ ক্ষুন্ন হয়। এ যেন নব্য রূপে জেঁকে বসা নব্য কোম্পানি শাসন।
সর্বোপরি, এ চুক্তি রাজনৈতিক ভাবে নব্য উপনিবেশবাদী ষড়যন্ত্র, যা দালাল ইউনূস সরকার করে গেছে। আর তাকে বিএনপি সরকারসহ সকল বুর্জোয়া পার্টিই কার্যত মেনে নিচ্ছে। কারণ, তাদের সকলের ক্ষমতায় থাকা ও যাওয়ার উৎস হলো সাম্রাজ্যবাদ, বিশেষত আমেরিকা। আমেরিকার এ অধীনতা না মানলে তেমন সরকারকে ফেলে দেবার হাজারটা উপায় সে অবলম্বন করতে সক্ষম। তথাকথিত গণ-আন্দোলন, সামরিক ক্যূ, হত্যা, নাশকতা, দেশের ভেতর থেকে সরকার প্রধানকে উঠিয়ে নিয়ে যাবার গুন্ডামি (ভেনিজুয়েলা), এমনকি সামরিক আক্রমণ (ইরান)– সবই সে করতে পারে। সাম্রাজ্যবাদ-নির্ভর রাজনীতি ও অর্থনীতির ধারক ও সেবক বুর্জোয়া পার্টিগুলো তাই এ ধরনের জাতিগত দাসত্বকে মেনে নিচ্ছে। বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরে স্লোগান তুলেছিল ‘সবার আগে বাংলাদেশ’! এখন বিএনপি সরকার বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করা যাবে না বলছে। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বলে এখন ‘সবার আগে আমেরিকা’ নীতিই বাস্তবায়ন করছে। অন্তর্বর্তী সরকারের বন্দর চুক্তিও তারা বাতিল করছে না।
সংসদে জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপি-জামাত-এনসিপি মুখে ফেনা তুলে ফেলছে কে কত বড় দেশপ্রেমিক তার প্রমাণে! অথচ দেশবিরোধী এই সব চুক্তি নিয়ে সংসদে কোনো উত্তাপ নেই! কারণ সরকারি ও বিরোধীদলের সম্মতিতেই এই সব দাসত্বমূলক, দেশবিরোধী চুক্তি হয়েছে, হচ্ছে, আরো হবে। দেশপ্রেমিকের বেশে এরা সকলেই মার্কিনসহ সকল সাম্রাজ্যবাদের দালাল।
তাই সকল দেশপ্রেমিক সচেতন নাগরিক এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে এই চুক্তির বিরোধিতায় ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামতে হবে। সরকারি ও বিরোধী দলের এই গণবিরোধী, দেশবিরোধী চুক্তিকে উন্মোচন করতে হবে এবং এই চুক্তি বাতিলে এদেরকে বাধ্য করতে হবে।
আরও খবর
- শনি
- রোব
- সোম
- মঙ্গল
- বুধ
- বৃহ
- শুক্র